নিউজ ডেস্ক:
২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। সীমান্ত সমস্যা, ভিসা নীতি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বক্তব্য সবকিছুতেই তীব্রতা বেড়েছে। যদিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে দিল্লি-ঢাকার আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা প্রসঙ্গ টেনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি দাবি করেন, দেশের অন্তত ৫০ লাখ যুবক ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপোষ হবে না। ভারতের হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বদনাম চাপানো হয়েছিল। এবার ভারত যদি দেশে ঢুকে পড়ে, তবে সেই বদনাম মুছে যাবে এবং প্রকৃত স্বাধীনতা যোদ্ধা হিসেবে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ মিলবে।”
তাহের আরও বলেন, “কমপক্ষে ৫০ লাখ যুবক ভারতের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধ করবে। তাদের একভাগ গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেবে, আরেকভাগ লাঠি হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। রাসূল (সা.)-এর গাজওয়া সম্পর্কিত হাদিস বাস্তবায়নের সুযোগ তখন তৈরি হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে গ্রাস করতে পারবে না।
যাকাতভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে ড. তাহের বলেন, অফিসিয়ালি যাকাত আদায় করা হলে তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব। এই অর্থ দিয়ে কর্মসংস্থান তৈরি, ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং ক্ষমতায় গেলে মুসলিম বিশ্বের যাকাত বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ভারতের সম্ভাব্য আগ্রাসন নিয়ে শঙ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেকে ভয় দেখায়, জামায়াত ক্ষমতায় এলে পাশের দেশ ঢুকে পড়বে। আমি দোয়া করি, তারা যেন ঢুকে। কারণ এতে ১৯৭১ সালের মিথ্যা বদনাম মুছে যাবে এবং আমরা সত্যিকারের স্বাধীনতা যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি পাব।”
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহির রহমান মনে করেন, ড. তাহেরের এই বক্তব্যকে ভারতকে আশ্বস্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তাঁর মতে, জামায়াত একদিকে ভারতকে বোঝাতে চাইছে তারা আক্রমণাত্মক কোনো পদক্ষেপ নেবে না, আবার অন্যদিকে নিজেদের জিহাদি অবস্থানও তুলে ধরছে।

