আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজার জনজীবনে চলমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলের কিছু ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমকে ‘তামাশা’ আখ্যা দিয়েছেন হামাসের গাজা শাখার শীর্ষ নেতা খালিল আল-হায়্যা। তিনি বলেন, “গাজায় বিমান দিয়ে ত্রাণ ফেলাটা তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। একমাত্র কার্যকর পন্থা হচ্ছে রাফা সীমান্ত খুলে দেওয়া।”
গতকাল সকালে ইসরায়েলের অনুমতি নিয়ে জর্দান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি বিমান মিলে গাজার আকাশে ত্রাণ ফেলে দেয়। মোট ত্রাণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৫ টন—যা একটি সাধারণ ত্রাণ ট্রাকের তুলনায়ও কম। উল্লেখ্য, একটি ত্রাণবাহী ট্রাক গড়ে ৪০ টন পণ্য পরিবহন করতে পারে।
এছাড়া, বিমান থেকে ত্রাণ ফেলার সময় বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিচে পড়া ত্রাণের কারণে গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি। এর আগে বিমান থেকে ছোড়া ত্রাণ প্যাকেট মাথায় পড়ায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজার জনসংখ্যার ন্যূনতম খাদ্যচাহিদা পূরণে প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০০টি ত্রাণ ট্রাক প্রয়োজন। শিশুদের জন্য প্রয়োজন প্রতি মাসে ২,৫০,০০০ ক্যান শিশুখাদ্য (ফর্মুলা)। অথচ বর্তমানে তা পৌঁছানোর কোনো বাস্তব সুযোগ নেই।
এ অবস্থায় হামাস নেতা খালিল আল-হায়্যা মিশরীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা কি চোখের সামনেই আপনাদের ভাইদেরকে অনাহারে মরতে দেবেন? আমরা বিশ্বাস করি, মিশরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা আসবে—গাজা অভুক্ত থাকবে না, আর রাফা সীমান্ত বন্ধ থাকবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় দীর্ঘমেয়াদী ত্রাণ পৌঁছানোর একমাত্র কার্যকর ও নিরাপদ পথ হচ্ছে রাফা সীমান্ত খুলে দেওয়া। বিমান থেকে ত্রাণ ফেলা যেমন অপ্রতুল, তেমনি তা জীবনহানির ঝুঁকিও বহন করে।