নিউজ ডেস্ক:
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার গহীন অরণ্যে যৌথবাহিনীর অভিযানে অবশেষে গ্রেপ্তার হলো মাদরাসা ছাত্র সোহেল অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী মংসানু মারমা (৩৫)। ইউপিডিএফ (মূল) দলের এই সক্রিয় সদস্যকে শনিবার সকালে আটক করে সেনাবাহিনী, যা এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়েছে।
একই দিনে পৃথক আরেক অভিযানে বাবু মারমাকেও আটক করে সেনাবাহিনী। পরবর্তীতে উভয়কে থানায় সোপর্দ করা হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল অপহরণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন মংসানু মারমা। তার দেয়া বর্ণনায় উঠে আসে এই নৃশংস ঘটনার পেছনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য।
উল্লেখ্য, ৪ জুলাই ২০২৫ রাতে ছদুরখীল এলাকায় নিজ বাড়িতে ফেরার পথে অপহৃত হয় শাহানশাহ হক ভান্ডারী সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. সোহেল (১৪)। মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। অপহরণের ১২ দিন পর ১৬ জুলাই উপজেলার বুদংপাড়ার গহীন অরণ্যের একটি ঝিরি থেকে সোহেলের হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।
এ ঘটনায় পরিবারের সন্দেহভাজনদের মধ্যে তিনজনকে — সম্বু কুমার ত্রিপুরা (৩৬), মো. মাঈন উদ্দিন (২১) এবং মো. ইয়াছিন মিয়া (২৮) — ১১ জুলাই আটক করে পুলিশ। তারা অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও শিশুটির অবস্থান জানাতে পারেনি।
তদন্তে জানা যায়, ২০২১ সালে অস্ত্রসহ আটক হয়ে ২৩ মাস কারাভোগ শেষে জামিনে বেরিয়ে পুনরায় সশস্ত্র তৎপরতায় জড়ায় মংসানু মারমা। বাটনাতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় সে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল জানান, “সোহেল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত মূল পরিকল্পনাকারী মংসানু মারমাসহ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।”
এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম রহস্য উন্মোচিত হলো। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস ছড়ানো মংসানুর গ্রেপ্তারে তারা স্বস্তি অনুভব করছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সফল অভিযানের প্রশংসা করছেন।