নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদুল আজহা মানেই ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এক পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবের মূল অনুষঙ্গ হলো কুরবানি, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হয়। আর তাই কুরবানির পশু নির্বাচন শুধুই একটি কেনাকাটা নয়—এটি একটি ইবাদতের অংশ, যা হতে হবে বিশুদ্ধ, নিরাপদ ও শরিয়তসম্মত।
পশুর হাটগুলো ইতোমধ্যে জমজমাট হয়ে উঠেছে। তবে বাহ্যিক আকর্ষণ দেখে পশু কেনার প্রবণতার সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তারা কৃত্রিম উপায়ে গরুকে দ্রুত মোটা করতে ব্যবহার করছেন হরমোন ও স্টেরয়েড—যেমন ডেক্সামেথাসন, টেস্টোস্টেরন ইত্যাদি। এসব রাসায়নিক গরুর স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানুষের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা গরুর কিছু সহজ লক্ষণ রয়েছে:
- নড়াচড়া কম, চটপটে নয়
- চোখ লালচে ও ক্লান্ত
- শরীরে পানি জমে থাকে, চাপ দিলে দেবে যায়
- মুখ শুকনো, লালা ঝরে, খাবারে অনীহা
- চামড়া রুক্ষ, লেজ নড়াচড়া কম
এছাড়া অসুস্থ গরুর ক্ষেত্রে দেখা যায়—এক জায়গায় স্থির থাকা, জাবর না কাটা, চোখ ও নাক দিয়ে ময়লা বের হওয়া ইত্যাদি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ জানান, গরু কুরবানির উপযোগী কিনা, তা বোঝার জন্য দাঁত ও শিঙ দেখাই যথেষ্ট। নিচের চোয়ালে ‘ইনসিসর’ দাঁত থাকলে গরুটি উপযুক্ত বয়সে পৌঁছেছে। শিঙের গোড়া মোটা হলে সেটি পরিপক্বতার লক্ষণ।
আইন অনুযায়ী, পশুকে মোটাতাজা করতে হরমোন ব্যবহারে এক বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা রয়েছে, কিন্তু বাস্তব প্রয়োগ দুর্বল।
তাই কুরবানির পশু কেনার সময় শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের নয়, বরং সচেতনভাবে স্বাস্থ্য, বয়স ও প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন। যেন আপনার ইবাদত হয় খাঁটি, আর ঈদ হয় নিরাপদ ও পূর্ণ আনন্দে পরিপূর্ণ।