নিউজ ডেস্ক :
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই নির্বাচনী অনিশ্চয়তা ও সন্দেহ দানা বেঁধেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। এই ধোঁয়াশা কাটাতে একটি সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য রোডম্যাপ দাবি করছে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে অন্তর্বর্তী সরকারকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রাখার চেষ্টা চলছে। দ্রুত ভোটের নির্ধারিত দিন-তারিখ ঘোষণা করা হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আস্থা ফিরত বলে মনে করেন তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, রোডম্যাপ ছাড়া নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকর প্রস্তুতি সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই দ্রুত নির্বাচন চেয়ে আসছে। কখনও ছয় মাস, কখনও এক বছরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেছে তারা, আর সর্বশেষ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটের জন্য অনড় অবস্থান নিয়েছে। দুই দফা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেও সন্তুষ্ট হতে পারেনি দলটি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ দিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি তৈরি হতো এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি ও অগ্রযাত্রা সহজ হতো। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিনিয়োগ ও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা।
অন্যদিকে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সম্মানের রাজনীতির বদলে যদি সংঘাতের রাজনীতি হয়, তাহলে তা স্বৈরাচারের জন্য মাটি উর্বর করে দেবে। গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই।
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা অন্যান্য দলগুলোর নেতারাও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ থাকলে বর্তমান দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অবসান ঘটত। তিনি বলেন, সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশনকে একটি রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দিতে পারত, যা দলগুলোর সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে সহায়ক হতো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বীর আহমেদও এই দাবিকে বাস্তবসম্মত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী দিন-তারিখ জানতে চাওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। কারণ, শুধু দলগুলোর নয়, নির্বাচন কমিশনেরও প্রস্তুতির জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি জানা জরুরি। তার মতে, বিচার অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচন বিলম্বিত করার যে যুক্তি শোনা যাচ্ছে, তা সময় ক্ষেপণের একটি কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দুই মাস আগে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। তবে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নয়। তারা বলছে, সংঘাতের রাজনীতি নয়, আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সমাধান খোঁজাই উত্তম পথ।
