নিউজ ডেস্ক :
চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে আজ শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বসেছে ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১৬তম আসর। শত বছরের এই আয়োজন শুধু কুস্তির প্রতিযোগিতা নয়, বরং তা ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি বর্ণিল বৈশাখী উৎসব, যা চট্টগ্রামের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
বলীখেলার সঙ্গে মিলিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) থেকে লালদিঘি এলাকায় শুরু হয়েছে তিনদিনের বৈশাখী মেলা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রকমারি লোকজ পণ্য নিয়ে অংশ নিয়েছেন মেলায়। হাড়িপাতিল, আসবাব, গয়না, কাপড়, শীতলপাটি, ফুলদানি—গ্রামীণ জীবনের নানা উপকরণে রঙিন হয়ে উঠেছে ছোট ছোট স্টলগুলো।
মেলায় শিশুদের আনন্দ বাড়াতে রয়েছে নাগরদোলা ও অন্যান্য গ্রামীণ খেলার আয়োজনও। পরিবার-পরিজন নিয়ে নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন এই আয়োজনে, বিশেষ করে সন্তানদের লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে আসছেন অনেক অভিভাবক।
তবে এবারের মেলায় পুলিশ কোনো সড়কে দোকান বসতে দেয়নি, ফলে কিছুটা সীমিত পরিসরে হলেও মাঠের চারপাশেই জমে উঠেছে মেলা। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান জানান, এটি শুধু চট্টগ্রামের নয়, বরং দেশের অন্যতম প্রাচীন বৈশাখী মেলা, যার বয়স পেরিয়েছে এক শতকের বেশি।
প্রসঙ্গত, ১৯০৯ সালের ১২ বৈশাখ, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তরুণদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে চট্টগ্রামের বদরপাতির ব্যবসায়ী মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর প্রথম এই বলীখেলার আয়োজন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ১২ বৈশাখ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে বসে এই অনন্য আয়োজন।
