নিউজ ডেস্ক :
বাংলাদেশে আবারও বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যশোরের একটি মুরগির খামারে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় দুই হাজার মুরগি মারা গেছে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে বাকি মুরগিগুলোও মেরে ফেলা হয়েছে। ২০১৮ সালের পর এই ভাইরাস দেশে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হলো, যা দেশের পোল্ট্রি শিল্পের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) এক বিবৃতিতে এ নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, পোল্ট্রি খাত দীর্ঘদিন ধরেই সংকটে রয়েছে, তার ওপর বার্ড ফ্লু নতুন করে বড় ধাক্কা দিতে পারে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৭ সালে প্রথমবার এই রোগ শনাক্ত হওয়ার পর লাখ লাখ মুরগি নিধন করা হয়েছিল, অনেক খামারি পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছিলেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। খামারিদের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ এবারের পরিস্থিতি অতীতের মতো ভয়াবহ নয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার জানান, সংক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ দল খামারটি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। কীভাবে ভাইরাসটি দেশে প্রবেশ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বার্ড ফ্লু মূলত পাখিদের মধ্যে ছড়ালেও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, ভাইরাসটি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দেহকোষে অভিযোজিত হলে তা মানুষের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ বেড়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে শত শত মিলিয়ন পোল্ট্রি নিধন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এ রোগের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
