নিউজ ডেস্ক :
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা বরকত উল্লাহ। রায় ঘোষণার পর তিনি বলেন, “হাইকোর্টের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। এখন সব প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত রায় কার্যকর দেখতে চাই।”
রোববার দুপুরে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ বহুল আলোচিত এই মামলার রায় দেন। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২০ আসামির সাজা বহাল রাখেন তারা, একইসঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির সাজাও বহাল থাকে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলসহ কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ হাসান চৌধুরী ও আজিজুর রহমান দুলু তাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আবরারের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারান আবরার ফাহাদ। ওই ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে তদন্তে আরও ছয়জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে মোট ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচারিক আদালত ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বিচারিক আদালতের রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টে পৌঁছায় এবং ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পাশাপাশি আসামিরা জেল আপিল ও নিয়মিত আপিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করল।
আবরারের বাবা এখন দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানাচ্ছেন। তবে আসামিপক্ষ চাইলে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে। এখন সবার নজর আপিল বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
