নিউজ ডেস্ক :
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছাড়াও বাংলাদেশ ও ইউক্রেন পরিস্থিতি গুরুত্ব পায়। চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া ও কমনওয়েলথ সম্পর্কেও মতবিনিময় হয়। তবে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে জয়শঙ্কর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
এদিকে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গত বছরের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে নির্বাসিত হন। প্রথমে গুঞ্জন উঠেছিল, তিনি যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চাইলে ব্রিটেন তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে।
শেখ হাসিনার ভাগ্নি, ব্রিটিশ লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের নামও এ তদন্তে উঠে আসে। দুর্নীতির অভিযোগের জেরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ব্রিটেনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন। তার বিরুদ্ধে লন্ডনে শেখ হাসিনা-ঘনিষ্ঠ একজনের কাছ থেকে উপহার গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে, পাশাপাশি তিনি ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের দুটি টিকিট পেয়েছিলেন এক বাংলাদেশি সাবেক এমপির কাছ থেকে। এ নিয়ে ব্রিটেনের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি তার বরখাস্তের দাবিও তোলে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শেখ হাসিনার নির্বাসন ও টিউলিপ সিদ্দিকের দুর্নীতির অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ভারত ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সংলাপে এসব ইস্যু গুরুত্ব পাওয়ায় ভবিষ্যতে নতুন কোনো ভূরাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
