জাগ্রত পাহাড় ডেস্ক :
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার ফলাফলে নতুন ইতিহাস গড়েছে বান্দরবান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম সুইটি এ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৮৯তম স্থান অর্জন করে বিচার বিভাগে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি জেলার দ্বিতীয় নারী বিচারক হিসেবে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন। তার আগে, ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ১২তম জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তার বড় বোন আফসানা ইসলাম রুমি।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের এই দুই বোনের সাফল্যে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। তাদের বাবা নুরুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য, আর মা সাজেদা বেগম সমাজসেবায় অবদানের জন্য ‘রত্নগর্ভা’ ও ‘শ্রেষ্ঠ জয়ীতা’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। একই পরিবারে দুই নারী বিচারকের পাশাপাশি বড় ভাই মুজাহিদুল ইসলামও আইনের পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত এবং একই সঙ্গে বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত।
এই অর্জনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নুরুল ইসলাম বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার সন্তানেরা ন্যায়ের পথে থাকবে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করবে—এটাই আমার চাওয়া।” মা সাজেদা বেগম জানান, কঠোর শাসন শুধু পড়াশোনার জন্যই নয়, বরং সততা ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতেই তিনি সন্তানদের কঠোর নিয়মের মধ্যে রেখেছেন। তার বিশ্বাস ছিল, সততা ও ন্যায়ের পথেই তারা এগিয়ে যাবে, আর আজ সেই স্বপ্নই বাস্তবে ধরা দিয়েছে।
