নিউজ ডেস্ক :
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২৭তম বিসিএসে নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জন চাকরি প্রার্থীর পক্ষে রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, হাইকোর্টের রায় বহাল থাকায় আগামী ৯০ দিনের মধ্যে তাদের নিয়োগ দিতে হবে।
আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ মামলায় উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে অবশেষে চাকরি ফিরে পাওয়ার পথ সুগম হলো নিয়োগবঞ্চিতদের জন্য।
এর আগে, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত ২৭তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার ফল নিয়ে নানা আইনি জটিলতা দেখা দেয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করা হলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু দুই দফা ফল ঘোষণার পরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত হন। পরে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে এ বিষয়ে একাধিক মামলা হয়।
২০০৮ সালের জুলাই মাসে হাইকোর্ট প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে বৈধ ঘোষণা করে। এরপর ২০০৯ সালে আদালতের আরেকটি বেঞ্চ দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষাকেও অবৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের আপিলের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের জুলাইয়ে আপিল বিভাগ সরকারপক্ষের লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দেন।
এরপরও চাকরি না পাওয়ায় নিয়োগবঞ্চিতরা পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ) করেন। সর্বশেষ, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেন এবং সরকারকে ৯০ দিনের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এ রায়ে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ন্যায়বিচার পেলেন ২৭তম বিসিএসের নিয়োগবঞ্চিতরা।