নিউজ ডেস্ক:
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ — বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, দেশে খাদ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও আমদানি ব্যবস্থা থাকায় রমজান মাসে কোনো সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে তেল, চিনি, ছোলা ও খেজুরের মতো পণ্যের বাজারে কোনো ঘাটতি নেই এবং রমজানে ভোক্তাদের জন্য বাজার স্থিতিশীল থাকবে।
আজ রবিবার ঢাকার একটি হোটেলে ‘খাদ্যপণ্যের যৌক্তিক দাম: বাজার তত্ত্বাবধানের কৌশল অনুসন্ধান’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘দেশে আমদানি ব্যবস্থা ও মজুদ যথেষ্ট আছে। ইনশাআল্লাহ রমজান উপলক্ষে কোনো সমস্যা হবে না। তেল, চিনি, ছোলা ও খেজুরের কোনো সংকট বাজারে নেই।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমার কারণে দেশের বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের যে দাম দেখি, দেশের বাজারে তাতে দাম কমার কথা। দাম বাড়ার কোনো কারণ দেখি না।’
খাদ্যপণ্যের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ ও বাজার তত্ত্বাবধানের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোক্তাদের প্রকৃত সাহায্য করার জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। তিনি বলেন, ‘বাজারের সঠিক প্র্যাকটিস নিশ্চিত করার জন্য প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং টিসিবি কাজ করছে। এছাড়া, বাজারকে ভোক্তার জন্য সহনীয় করতে ট্যারিফ কমিশন ও এনবিআরও কাজ করছে।’
স্থানীয় উৎপাদক, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের বাজারকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিযোগিতা কমিশনকে স্বাধীন করার উদ্যোগ নিচ্ছে।’
এছাড়া, তিনি রাইস ব্র্যান অয়েলের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বলেন, ‘বছরে ৫-৬ লাখ টন রাইস ব্র্যান অয়েল ভারতে চলে যেত। এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো। আমরা এটার রপ্তানি কঠিন করে দিয়েছি এবং ইতিমধ্যে ২৫ শতাংশ রেগুলেটরি ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে। এই তেল বাজারে এলে তেলের বাজার আরো স্থিতিশীল হবে।’ তিনি আরও বলেন, বোতল তেল ও খোলা তেলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, একমাত্র পার্থক্য দাম।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, সরকার ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে এবং রমজান মাসে কোনো ধরনের সংকট এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।
