নিউজ ডেস্ক:
বিডিআর সদস্য ল্যান্স নায়েক আলতাফ হোসেনের জীবনের ষোলোটি বছর কেটেছে কারাগারে, আর এই সময়ে একে একে হারিয়েছেন মা, বোন, ভাগ্নিসহ ২৬ জন প্রিয়জনকে। কিন্তু কোনো শেষ বিদায়ে থাকতে পারেননি, চোখের জল ফেলার সুযোগ পাননি। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড মামলার আসামি হয়ে বন্দি থাকার পর, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২৩ জানুয়ারি বরগুনার নিজ বাড়িতে ফিরেছেন তিনি।
১৯৯২ সালে দেশপ্রেমের টানে তৎকালীন বিডিআরে যোগ দেওয়া আলতাফ ১৩ নম্বর ব্যাটালিয়নে কর্মরত থাকাকালীন পিলখানা ট্র্যাজেডির পর গ্রেপ্তার হন। পরে বিভাগীয় মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড পেলেও হত্যা মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হন। বিস্ফোরক মামলায় দীর্ঘ ১৬ বছর কারাবাস শেষে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
কারাগারে যাওয়ার পরপরই শুরু হয় স্বজন হারানোর মর্মান্তিক অধ্যায়। প্রথমে ভাগ্নির মৃত্যু, তারপর একে একে মা, বোন, চাচাসহ আরও অনেকে। ২০২২ সালে মায়ের মৃত্যুর খবর জানানো হলেও শেষ দেখা করতে পারেননি তিনি।
স্বামীকে ফিরে পেয়ে স্ত্রী শিরীন সুলতানা জানান, দুই সন্তানকে মানুষ করা, মামলা চালানো—সব সামলাতে সীমাহীন কষ্ট করতে হয়েছে তাকে। বাবাকে চিনতেই পারেনি তার সন্তানরা।
কারামুক্ত হয়ে আলতাফ বলেন, “পিলখানা এত বড় এলাকা, সেখানে কী ঘটেছিল আমরা সবাই জানতাম না। নতুন তদন্ত হচ্ছে, এবার সত্য বেরিয়ে আসবে।” চাকরি ফেরত ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “সর্বোচ্চ আদালত আমাকে নির্দোষ বলেছে, তাহলে আমাদের আটকে রাখা হলো কেন?”
