নিউজ ডেস্ক:
সাবেক সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা ২৪টি বিলাসবহুল গাড়ির নিলাম শুরু হয়েছে। আজ রবিবার অনলাইনে এই নিলাম পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এসব গাড়ির শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল করার পর কাস্টম হাউস নিলামের আয়োজন করে। প্রথম ধাপে নিলামে এসব গাড়ি বিক্রির মাধ্যমে ১৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদে ৫১ জন এমপি শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানির জন্য লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলেন। তবে গাড়ি নিয়ে ছাড় করিয়েছেন মাত্র ছয়জন। এর মধ্যে ফরিদপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদ শুল্ক-কর পরিশোধ করে একটি গাড়ি ৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় ছাড় করান। বাকিদের গাড়ি বন্দরে আটকা পড়ে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপকমিশনার সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “এই নিলামের জন্য প্রস্তুত ২৪টি গাড়ির সবই উচ্চ সিসির এবং সাবেক সংসদ সদস্যদের আমদানিকৃত। ক্রেতারা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত গাড়িগুলো সরাসরি পরিদর্শন করতে পারবেন।”
বিলাসবহুল এসব গাড়ির মধ্যে সবচেয়ে দামি গাড়িটি সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ সাদিকের। শুল্কসহ এটির দাম প্রায় পৌনে ৯ কোটি টাকা। আর সবচেয়ে কম দামের গাড়ি এনেছেন ময়মনসিংহ-৭ আসনের সাবেক এমপি এবিএম আনিসুজ্জামান, যার মূল্য ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
নিলাম প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকল্স ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেছেন, “গাড়িগুলো দীর্ঘ মেয়াদে বন্দরে আটকে থাকলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেক্ষেত্রে দ্রুত এবং কার্যকর নিলাম প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।”
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, “যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করে নিলামের প্রক্রিয়া পরিচালনা করা উচিত, যাতে গাড়ি ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা উভয়েই উপকৃত হন।”
কাস্টম হাউস আশা করছে, সঠিক নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে এবং গাড়িগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাবে।
