ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে সার্টিফিকেট বাণিজ্য: ইউজিসির সতর্কতা

নিউজ ডেস্ক:

একটি নামহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যা “ইস্ট এশিয়ান ইউনিভার্সিটি” নামে পরিচিত, অননুমোদিতভাবে সার্টিফিকেট বিক্রি করছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বাস্তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির কোনো শারীরিক অস্তিত্ব নেই, তবে একটি ওয়েবসাইট খুলে তা অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং চাকরিদাতাদের সতর্ক করেছে ইউজিসি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ইউজিসির পাবলিক রিলেশন্স ম্যানেজমেন্ট শাখার পরিচালক ড. শামসুল আরেফিনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একটি প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তার অনুরোধে এই ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম তদন্ত শুরু করে কমিশন। ইস্ট এশিয়ান ইউনিভার্সিটির নামে ইস্যু করা একটি সনদের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় নেই।

ইউজিসি গঠিত দুই সদস্যের পরিদর্শন টিম সরেজমিনে রাজধানীর পূর্ব মেরুল বাড্ডায় বিশ্ববিদ্যালয়টির তথাকথিত ক্যাম্পাস খুঁজে পায়নি। টিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ইউজিসি, ফার্মেসি কাউন্সিল বা বার কাউন্সিলের কোনো অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পরিদর্শন টিম আরও জানায়, সনদ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে ভুয়া তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২৫ হাজার গ্র্যাজুয়েট স্নাতক সম্পন্ন করেছে।

ইউজিসির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতারণা বন্ধে দ্রুত ওয়েবসাইটটি বন্ধ করতে বিটিসিএলকে চিঠি পাঠানো হবে। একইসঙ্গে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

জনগণকে সতর্ক করতে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও সুপারিশ করেছে ইউজিসি। ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।