নিউজ ডেস্ক:
রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় কমলা চাষ এখন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। উপজেলাটির তৈ-চাকমা মৌজার ১৭ মাইল সেতু এলাকায় ঝুলছে থোকা থোকা রসালো কমলা। এখানকার চাষিদের মধ্যে সুদত্ত চাকমার নাম উল্লেখযোগ্য। তাঁর বাগানে রয়েছে ৬০০-রও বেশি কমলার গাছ, যার মধ্যে চলতি মৌসুমে মাত্র ১৩০টি গাছ থেকেই তিনি ১৭ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন।
সুদত্ত চাকমা ২০২০ সালে চার একর জমিতে কমলা চাষ শুরু করেন। প্রথমে ১৫০টি গাছ রোপণ করে সফলতা পান। পরবর্তী বছরগুলোতে আরও গাছ রোপণ করেন। তিনি বলেন, “আগামী মৌসুমে আরও বেশি ফলন এবং আয়ের আশা করছি।”
নানিয়ারচর ছাড়াও রাঙামাটির অন্যান্য উপজেলায় কমলার ব্যাপক চাষ হচ্ছে। এ বছর জেলাটির প্রায় ২১০০ একর জমিতে চাষকৃত কমলা থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার উপার্জন হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৫ লাখ কেজি কমলা উৎপাদন হয়েছে।
নানিয়ারচর ইউনিয়নের চাষি সবিনয় চাকমার বাগানে রয়েছে তিন শতাধিক গাছ। তিনি জানান, এ বছর তাঁর ১২ লাখ টাকার কমলা বিক্রি হয়েছে। তাঁর মতো অন্য চাষিরাও লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা এবং জলবায়ু সহায়ক হলে রাঙামাটির পাহাড়ে কমলা চাষের আরও অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং ন্যাড়া পাহাড়ের কারণে কিছু এলাকায় ফলনে প্রভাব পড়ছে।
এতকিছুর পরও নানিয়ারচরের কমলার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। সুস্বাদু, সুমিষ্ট এবং রসালো কমলার জন্য এই অঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।
সংগ্রহ ও বিক্রির প্রস্তুতি চলছে:
বাগান থেকে কমলা সংগ্রহ করে রাঙামাটি শহরের বাজারে আনা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কমলা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা চাষিদের জন্য লাভজনক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করলে রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায় কমলা চাষ দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সুত্র: প্রথম আলো
