নিউজ ডেস্ক:
সীমান্তে হত্যার ঘটনায় ১৫ বছরেও সুষ্ঠু বিচার হয়নি। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হয় ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানী খাতুন। শুধুমাত্র ফেলানী নয়, গত ১৫ বছরে সীমান্তে ৬ শতাধিক হত্যার একটিরও বিচার হয়নি।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হলেও সাজানো বিচারে এক মাসের মধ্যে আসামি অমিয় ঘোষ বেকসুর খালাস পায়। বাদীপক্ষের আপত্তিতে ২০১৪ সালে পুনঃবিচার শুরু হলেও ফলাফল একই থাকে।
২০১৫ সালে মানবাধিকার সংস্থা সুরক্ষা মঞ্চ ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট করলেও ৯ বছর ধরে বিভিন্ন কারণে মামলাটি ঝুলে আছে। ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নতুন সরকারকে মামলাটি দেখভাল করার আহ্বান জানান।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বিএসএফের গুলিতে সীমান্তে ৬০০ জন নিহত এবং সাড়ে ৭০০ জন আহত হয়েছেন। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের একটিরও বিচার হয়নি।
সীমান্ত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিরস্ত্র নাগরিকদের সুরক্ষা ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রটোকল পুনর্মূল্যায়ন ও যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন। কুড়িগ্রামের সাবেক পিপি এস এম আব্রাহাম লিংকনের মতে, ফেলানী হত্যা মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি ভবিষ্যতে সীমান্ত হত্যা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফেলানীর মা জাহানারা বেগম আজও সেই বিভীষিকাময় দিনের কথা মনে করে কাঁদেন। তিনি জানান, মেয়ে পানির জন্য ৩ ঘণ্টা চিৎকার করেছিল, কিন্তু মা হয়ে তিনি মেয়ের পাশে যেতে পারেননি। সেই আক্ষেপ আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
