নিউজ ডেস্ক:
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থেকে উঠে আসা নুখিংসাই মারমা বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এ শ্রেষ্ঠ নারী সৈনিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
একজন সাধারণ কৃষকের মেয়ে নুখিংসাই মারমা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন সাহসী এবং দৃঢ়চেতা। দুর্গম পাহাড়ি পথে প্রতিদিন মাইলের পর মাইল হেঁটে স্কুলে যেতেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বান্দরবান সদরে চলে আসেন। সেখান থেকেই দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেন।
বিজিবিতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয় গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে। সেখানে ৬৪৯ জন পুরুষ এবং ৪৬ জন নারী রিক্রুটের সঙ্গে তিনি অংশ নেন। ছয় মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে নুখিংসাই বিজিবির শ্রেষ্ঠ নারী সৈনিক নির্বাচিত হন।
গতকাল (মঙ্গলবার) প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) তাঁর হাতে ১০২তম রিক্রুট ব্যাচের সেরা চৌকস রিক্রুটের পুরস্কার তুলে দেন।
পুরস্কার গ্রহণের সময় নুখিংসাই বলেন, “দেশের এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে ছাড় দেব না। নিজের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করব দেশের ভূখণ্ড রক্ষায়।”
নুখিংসাইয়ের বাবা উচিংসং মারমা বলেন, “মেয়ের এই অর্জনে শুধু আমরা নই, পুরো গ্রাম গর্বিত। দেশের সীমান্ত রক্ষায় তাঁর ছোট মেয়ে কাজ করবে, এটি ভেবে গর্বে বুক ভরে ওঠে।”
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, প্রশিক্ষণ শেষ করা সৈনিকদের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।
নুখিংসাই চান, দেশের আরও নারীরা চ্যালেঞ্জিং পেশায় এগিয়ে আসুক। তাঁর মতে, “দেশের জন্য কাজ করার সুযোগই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
এই অর্জন শুধু নুখিংসাই মারমার নয়, বরং দেশের নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা।
সুত্র: প্রথম আলো
