নিউজ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম বন্দর চলতি বছরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এ বছর বন্দরটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩২ লাখ ২৩ হাজারটি এবং কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টনে। বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বন্দরটির সক্ষমতা বেড়েছে এবং এটি দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ১ লাখ ৭২ হাজার বেশি কনটেইনার এবং ১৮ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।
বছরের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ডলার সংকটের কারণে বন্দরের কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিলেও বছরের শেষ প্রান্তে এ অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে, বিলাসবহুল পণ্যের এলসি খোলার জটিলতা কাটতে শুরু করায় আমদানি এবং রপ্তানি দুটিতেই গতি ফিরে এসেছে।
শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. আরিফ জানান, ডলারের জোগান বাড়ায় এলসি খোলার পথ সুগম হয়েছে। এতে কাঁচামাল আমদানি বাড়ায় উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানিও বেড়েছে। একই সঙ্গে রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের আমদানির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বন্দরের কার্যক্রমে।
২০২৩ সালের তুলনায় এ বছর বন্দরে আগত জাহাজের সংখ্যা কমলেও প্রতিটি জাহাজে পণ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন মনে করেন, ডলার সংকট কাটতে থাকায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে যে গতি ফিরেছে, সেটিই বন্দরের রেকর্ড সাফল্যের প্রধান কারণ।
ডলার সংকট ও রিজার্ভ ঘাটতির কারণে গত দুই বছরে বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও বর্তমানে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্বাভাবিক গতি ফেরায় চট্টগ্রাম বন্দর তার অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে সক্ষম হয়েছে।