ইসরায়েলের গাজায় চলমান হামলার জেরে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে তুরস্ক। সর্বশেষ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে তুরস্কের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট কপ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের আকাশসীমা ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তবে তুরস্ক তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। ব্রাজিলে জি-২০ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, “আমরা তাদের বিকল্প রুট খুঁজে নিতে বলেছি এবং নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেইনি।”
এদিকে, আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত কপ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট শেষ পর্যন্ত যোগ দেননি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নিরাপত্তার কারণে সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে “নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত” ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে ৭০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়েছিল। তুরস্ক জানায়, এই স্থগিতাদেশের আওতায় সব ধরনের পণ্যই পড়বে। গাজায় ত্রাণ সরবরাহের বাধা দূর না হওয়া পর্যন্ত তুরস্ক তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
এর আগে সীমিত পরিসরে ইসরায়েলের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল তুরস্ক। তবে এবার পুরোপুরি বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান প্রশাসন।
তুরস্কের এ ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ। তিনি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে “স্বৈরশাসক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি উপেক্ষা করছেন এবং তুর্কি জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।”
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্যের বিকল্প খুঁজতে এরই মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধাক্কা সামলাতে স্থানীয় উৎপাদন এবং অন্যান্য দেশ থেকে আমদানির ওপর জোর দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষিতে তুরস্কের এমন কঠোর পদক্ষেপ দেশ দুটির কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
