বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাহিদায় আদানি পাওয়ারের সঙ্গে চুক্তি বহাল: আইনি জটিলতার শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সরবরাহে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও ভারতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ কেনা অব্যাহত রাখবে। আন্তর্জাতিক আদালতে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এবং বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে শুক্রবার (১২ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়।

২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আদানি গ্রুপের সঙ্গে ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৫ বছরের জন্য বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হয়। চুক্তি অনুসারে, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। তবে বিদ্যুৎ মূল্যসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে চুক্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একজন কর্মকর্তা জানান, আদানি পাওয়ার থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে বাংলাদেশকে প্রায় ১২ টাকা ব্যয় করতে হয়। যা ভারতীয় অন্যান্য বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহকারীর তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ মূল্যসংশ্লিষ্ট উদ্বেগ বাড়ছে।

সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতির স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের চুক্তি পর্যালোচনা করছে এবং এ নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বর্তমানে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং আগেভাগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলে জানান তিনি।

এদিকে, চুক্তি বাতিল হলে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের পক্ষে আইনি চ্যালেঞ্জে সফলতা পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই বিকল্প হিসেবে শুল্ক কমানোর পারস্পরিক চুক্তি করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তিটি দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-দশমাংশ পূরণ করে বলে বাতিলের বিষয়টি সরাসরি বিবেচনা করা হচ্ছে না।