বিশেষ প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক প্রতিবেদনে এসব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ নিয়ে। কারিগরি বা প্রকৌশল বিদ্যা না থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নজরুল ইসলাম প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রকল্পের মূল অনিয়ম ও অসঙ্গতিসমূহ:
- নন-ইঞ্জিনিয়ার পিডি: প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম প্রকৌশলী না হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে বা তদবিরের মাধ্যমে এ উন্নয়ন প্রকল্পের পিডির পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
- অনুমোদন ছাড়া লট বিভাজন: বিধিমালা তোয়াক্কা না করে প্রকল্পের ৭টি ক্রয় প্যাকেজকে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের (HOPE) পূর্বানুমতি ছাড়াই ৭৯টি লটে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতিযোগিতাহীন দরপত্র: প্রতিটি লটে মাত্র ২-৩টি দরপত্র বিক্রি এবং চূড়ান্তভাবে মাত্র ২টি করে দরপত্র জমা পড়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (OTM) অনুসরণ করা হলেও পর্যাপ্ত প্রতিযোগী না থাকায় প্রকৃত বাজারদরের প্রতিফলন ঘটেনি।
- লক্ষ্যমাত্রায় ধস: সুপেয় পানি সরবরাহ ১৩% বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪%।
অনুমোদন ও বাজেট:
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৫০ কোটি টাকার কম বাজেটের এই প্রকল্পটির অনুমোদন দেন। এতে গণমাধ্যমে তথ্য প্রচারের জন্যই আলাদাভাবে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।
দায়িত্বশীলদের অবহেলা ও অনুপস্থিতি:
এসব গুরুতর অনিয়মের বিষয়ে জানতে পিডি ও জেলা পরিষদের সিইও নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে তাঁর সিএ সুজিত বড়ুয়া জানান, কর্মকর্তা কোনো ছুটি না নিয়ে রেস্ট হাউসে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে-কেও ফোনে পাওয়া যায়নি।
প্রকৌশলীদের মতে, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে এ ধরনের বড় উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি হওয়ার সুযোগ নেই। তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
