বিশেষ প্রতিনিধি
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান— ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সম্প্রতি এক বৈঠকে ঢাকার পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ভার্চ্যুয়াল ব্রিফিং ঘিরে ক্ষোভ ও ঢাকার কঠোর অবস্থান
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা একটি ভার্চ্যুয়াল প্রেস ব্রিফিং করেন, যেখানে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও উপস্থিত ছিলেন। উক্ত ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন, ‘যদি তাকে হত্যাও করা হয়’ তবুও তিনি আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন।
এই ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যের পর ঢাকা ও রাজনৈতিক মহলে চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর দল বিএনপি এই ঘটনায় এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন যে, তাঁদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে— বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভারতের দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা ও ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর
হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের পর ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ওই ব্রিফিং আয়োজনে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ট্রিবিউন জানায়, দিল্লি অস্বীকার করলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১০ আগস্ট ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (R&AW)-এর প্রধান পরাগ জৈন ঢাকা সফরে এসে প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এ কে এম শামসুল আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই দিনে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ৪৫ মিনিটের এক দীর্ঘ বৈঠক করেন।
তারেক রহমানের অনড় সিদ্ধান্ত ও দিল্লির বিস্ময়
বৈঠকে ভারতীয় দূত দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের সীমাহীন সুযোগের কথা উল্লেখ করেন এবং ভারত সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন— শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণের ওপরই তাঁর ভারত সফর নির্ভর করছে।
বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের এই শক্ত অবস্থানের কথা জানান। ভারত তার পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে জোর দিচ্ছিল, যার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ঢাকার এমন আপসহীন অবস্থানে দিল্লির নীতি নির্ধারকরা বেশ অবাক হয়েছেন।
হাসিনাকে নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক উভয়সংকট
একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ভারতকে দিল্লির পুরনো মিত্র শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হাসিনাকে ত্যাগ করা কঠিন, কারণ এটি তাঁর জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতে নেওয়া আশ্রয়। তবে অপর একটি সূত্রের মতে, পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারতের জন্য একটি বন্ধুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ অপরিহার্য।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান প্রথম সফরে মালয়েশিয়া ও চীনে গিয়েছেন, যা নজরদারিতে রেখেছে ভারত। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দুই দেশেরই একে অপরকে প্রয়োজন থাকায় এখন উভয় পক্ষই কূটনৈতিক অবস্থান কিছুটা শিথিল করার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
