বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম
প্রকাশিত ১৩ ই আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে প্রায় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষায়, আমানতকারীদের এই বিপুল অঙ্কের অর্থের বড় ধরনের ‘ঘাটতি’ চিহ্নিত হয়েছে।
এই জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং মো. জাফরুল্লাহ তানভীর নামে এক বহিরাগতকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
জালিয়াতির বিবরণ ও আইনি পদক্ষেপ
- ঘটনার সূত্রপাত: গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন শেষে ভল্টের সংরক্ষিত নগদ টাকা ও রেজার্ভ হিসাব মেলানোর সময় প্রথম কোটি টাকার এই গরমিল প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে বিস্তারিত নথি ও ক্যাশ রেজিস্টার পর্যালোচনায় মোট ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
- মামলা দায়ের: ঘটনাটি কেন্দ্র করে অগ্রণী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা (মামলা নম্বর: ২২/৪৩৮) দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় মূল আসামি করা হয়েছে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
- মামলার তদন্ত: মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেনকে।
অর্থ রূপান্তর ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন ভল্ট থেকে অর্থ সরিয়ে জাফরুল্লাহ তানভীরের সহায়তায় ব্যক্তিগত ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। তবে এই ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে:
- তদারকির অভাব: ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভল্ট থেকে টাকা সরানো হলেও প্রতিদিনের অভ্যন্তরীণ ক্যাশ অডিট ও ভল্ট চেকিংয়ে কেন এই ঘাটতি ধরা পড়েনি?
- ব্যবস্থাপনার ভূমিকা: শাখার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিয়মিত অডিট টিমের নজর এড়িয়ে কীভাবে দিনের পর দিন এত বড় অঙ্কের টাকা গায়েব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
পরিবারের দাবি ও পাল্টা বক্তব্য
মামলার দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের পরিবার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ্ জানান, “আমার ছেলে ব্যাংকের কর্মকর্তা তো নয়ই, এমনকি লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নয়। সে দীর্ঘদিন ধরে গরুর খামার পরিচালনা করে আসছে। কোনো প্রকার ব্যাংক রেকর্ড বা সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
পুলিশ ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তদন্তে আসল সত্যি কী উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
কফি পেস্ট আর টিভি অনলাইন
