বান্দরবান প্রতিনিধি:
বদলির আদেশ জারি এবং সরকারের বেঁধে দেওয়া ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ (তাত্ক্ষণিক অবমুক্ত)-এর সময়সীমা পার হওয়ার পরও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব ছাড়েননি পরাক্রম চাকমা। সরকারি নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে তাঁর এভাবে দায়িত্ব আঁকড়ে থাকা নিয়ে জেলা পরিষদে তীব্র অসন্তোষ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
নিয়মের ব্যত্যয় ও ক্ষোভ
সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ সূত্র জানায়, পরাক্রম চাকমা মূলত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। নিয়ম ভেঙে তিনি কীভাবে এই পদে বহাল আছেন, তা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পরাক্রম চাকমা এই জেলা পরিষদে আসেন। পরবর্তীতে এলজিইডির অধীন এই নির্বাহী প্রকৌশলী পদটি শূন্য থাকায়, গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নিয়মানুযায়ী প্রকৌশলী দিদারুল আলমকে এখানে পদায়ন করে এলজিইডি। কিন্তু আদেশ জারির তিন মাস পার হয়ে গেলেও দিদারুল আলমকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাইয়ের প্রভাব খাটাবলে পরাক্রম চাকমা এখনও দাপটের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ও স্ট্যান্ড রিলিজ
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (এলজিআরডি) ইতিমধ্যে পরাক্রম চাকমাকে চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ পৌরসভায় পদায়ন করেছে। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁকে চন্দনাইশ পৌরসভায় যোগদান করতে হবে; অন্যথায় ১৬ জুলাই থেকে তিনি বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপনের সময়সীমা পার হওয়ার পরও তিনি বান্দরবানেই অফিস করছেন।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তার বক্তব্য:
বদলি হওয়া প্রকৌশলী দিদারুল আলম বলেন, “আমাকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ডেপুটেশন (প্রেষণ) দিয়েছে। কিন্তু সরকারি আদেশ জারির তিন মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।”
অভিযুক্ত কর্মকর্তার দাবি
এ বিষয়ে নিয়ম ভেঙে দায়িত্বে থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা স্বীকার করেন যে তিনি এখনও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্বে আছেন। সরকারি আদেশ অনুযায়ী ১৫ জুলাই চন্দনাইশ পৌরসভায় যোগদান এবং ১৬ জুলাই স্ট্যান্ড রিলিজের নির্দেশনার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হলে তিনি জানান, “আমি বান্দরবান জেলা পরিষদে থাকব না তো ভাই, চলে যাব।” তবে চলে যাওয়ার কথা বললেও বাস্তবে কেন এখনও দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
বদলির আদেশ অমান্য করে এভাবে দায়িত্ব আঁকড়ে থাকার ঘটনায় জেলা পরিষদের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
