বান্দরবান প্রতিনিধি।।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চট্টগ্রাম মহানগরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বান্দরবান জেলার সদস্য সচিব মোহাম্মদ এরফানুল হক। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) এক বিশেষ ঘোষণায় তিনি এনসিপির সকল দায়িত্ব ও পদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের কথা জানান।
ঘোষণায় তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল নাগরিকভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়া। সে উদ্দেশ্যে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ গঠিত হলেও রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের পর এনসিপির দায়িত্বশীলদের শঠতা, দ্বিচারিতা ও বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তে জনগণ ও দলের নেতাকর্মীরা হতাশ ও প্রতারিত হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানের তিন মাসের মাথায় সারাদেশে ৩৩২টি থানায় কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার তরুণ যুক্ত হলেও এনসিপি তাদের ক্ষমতায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং জামায়াতের প্রভাব ও প্রেসক্রিপশনে তৃণমূলে সংগঠন বিস্তারে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দাখিলেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বান্দরবানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এরফানুল হক বলেন, পার্বত্য বান্দরবানের জনগণের আত্মসম্মান ও মর্যাদায় আঘাত করেছে এনসিপি। পাহাড়ে কোনো সংগ্রাম নেই—এমন একজন ব্যক্তিকে জোটের প্রার্থী করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তার ভাষায়, বান্দরবানে যোগ্য প্রার্থী নেই—এই ধারণা পাহাড়ি মানুষের জন্য অপমানজনক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রার্থী স্থানীয় জনগণের সমস্যা ও সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং নির্বাচনের পর মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের একা ফেলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিজের রাজনৈতিক অতীত তুলে ধরে এরফানুল হক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকা অবস্থায় থেকেই তিনি স্ট্যাবলিশমেন্টবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের দায়িত্ব পালন, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে হামলার শিকার হওয়া, রাতের ভোটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলির মুখে দাঁড়িয়ে আন্দোলন এবং শ্রমিক আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়ে মামলার শিকার হওয়ার ঘটনা তার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রমাণ।
তিনি জানান, রাজনৈতিক কাজের জন্য স্কলারশিপসহ যুক্তরাষ্ট্রের মেম্পিস বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং একটি ভালো চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল এনসিপিকে একটি বাংলাদেশপন্থি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু এনসিপি তার মতো হাজারো তরুণের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘোষণার শেষ অংশে মোহাম্মদ এরফানুল হক বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনাব তারেক রহমানের নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ তরুণদের জন্য আশার জায়গা হয়ে উঠতে পারে। তারেক রহমানের তৃণমূলমুখী রাজনীতি ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনে তিনি জনাব তারেক রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বান্দরবানবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষণস্থায়ী আবেগ ও কৃত্রিম বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হয়ে বান্দরবান রাজনীতির ভূমিপুত্র জনাব সাচিং প্রু জেরীকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী করুন। তিনি নিজেও সাচিং প্রু জেরীকেই ভোট দেবেন বলে জানান।
