বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাঙ্গু মৌজায় জায়গা দখল, ভয়ভীতি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ম্রো জনগোষ্ঠী। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় শতাধিক ম্রো জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সাঙ্গু মৌজায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, আলীকদমের উঃ উইচারা ভিক্ষু ও তৈন মৌজার হেডম্যান মংক্যনুগং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের অজুহাতে সাঙ্গু মৌজার সরকারি খাস জায়গা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ সময় তারা ম্রো জনগোষ্ঠীর ওপর ভয়ভীতি, চাঁদা দাবি ও হামলার মতো ঘটনা ঘটান। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল উঃ উইচারা ভিক্ষুর নেতৃত্বে সাঙ্গু মৌজার তিনটি জুমঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়, যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১ লাখ টাকা।
পরবর্তীতে লামা উপজেলা নির্বাহী আদালত তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পান এবং বিরোধীয় জমিতে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। তবুও নির্দেশ অমান্য করে উঃ উইচারা ভিক্ষু ও তাঁর অনুসারীরা ওই জায়গায় পর্যটন কটেজ ও পডহাউস নির্মাণসহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন ম্রো প্রতিনিধিরা।
সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর লামা ও আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের যৌথ তদন্তে সাঙ্গু মৌজার অংশে বেআইনি দখলের প্রমাণ মেলে। এরপরও ২৮ অক্টোবর প্রশাসনের পরিমাপ কার্যক্রমে বাধা দিতে উঃ উইচারা ভিক্ষু ও তাঁর সহযোগীরা মিথ্যা স্লোগান ও উস্কানিমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “তৈন মৌজার হেডম্যান প্রশাসনের অংশ হয়েও প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন—এটি ধৃষ্টতার শামিল।” তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত সময়ের মধ্যে মৌজার সীমানা নির্ধারণ ও বিরোধীয় ভূমির সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান চংপাত ম্রো, বাংলাদেশ ম্রো ছাত্র সংগঠনের সভাপতি তনয়া ম্রো, কাইনপ্রে ম্রো, মুক্তারাম ত্রিপুরা কারবারী, ফলেং ম্রো, সাকতাই ম্রো ও খাদিং ম্রো প্রমুখ।
ম্রো জনগোষ্ঠী ধর্মের নামে জায়গা দখলের অপচেষ্টা বন্ধ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
