নিজস্ব প্রতিবেদক:
খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান—বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। কখনো বাঙালি ও অ-বাঙালির মধ্যে দাঙ্গা সৃষ্টি, কখনো বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তার কিংবা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার মাধ্যমে এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে “সিএইচটি সম্প্রীতি জোট” পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছে।
সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, “ভারতীয় সহযোগিতায় চাকমা জাতি পরিচালিত ইউপিডিএফ ও জেএসএস সংগঠনগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি, লোভ ও প্রলোভন দেখিয়ে ভারত থেকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণে উৎসাহিত করছে। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে অস্ত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, এসব সংগঠনের অনেক নেতা ভারতে পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকেই “জুম্মল্যান্ড” প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনী ও বাঙালিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে দেশের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
সংগঠনের প্রস্তাবিত দাবি ও করণীয়:
- জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা:
বাঙালি ও অ-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা। - ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা:
বিদেশি অর্থায়ন ও প্রভাবিত সংগঠনগুলোর কার্যক্রম দৃঢ়ভাবে দমন করা। - রাষ্ট্রীয় নজরদারি বৃদ্ধি:
সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি শক্তিশালী করা। - শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন:
পাহাড়ে স্থায়ী শান্তির জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো। - সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি:
পার্বত্য এলাকায় স্থায়ী সেনা ক্যাম্প বৃদ্ধি ও স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা উন্নয়ন করা। - সংস্কার কমিশনের ভূমিকা:
‘আদিবাসী’, ‘উপজাতি’, ‘জুম্ম’ ও ‘সেটলার বাঙালি’ ইত্যাদি বিভাজনমূলক শব্দ বাতিল করে সকলকে জাতীয় পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করা।
সংগঠনটি দাবি জানায়, ভারতপন্থী ইউপিডিএফ ও জেএসএস কর্তৃক পরিচালিত সব ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা, গুম ও বিদেশি ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার, প্রশাসন এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন—জাতীয় ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাহাড়ে পুনরায় শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

