খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :
খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ডাকে সড়ক অবরোধ চলছে। রোববার সকাল থেকে শহরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, অধিকাংশ দোকানপাটও shutter নামানো। শহরের বিভিন্ন মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহল দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাত প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে দুপুরে সদর উপজেলা, পৌরসভা এলাকা এবং গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। তবে পাহাড়িদের অভিযোগ, ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেও তাঁদের ওপর হামলা হয়েছে। এর প্রতিবাদে চার দফা দাবিতে মধ্যরাতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণা করা হয়।
অবরোধ সমর্থনে সকালে শহরে কোনো পিকেটিং না দেখা গেলেও উপজেলা ও গ্রামীণ সড়কে বিক্ষুব্ধ জনতা টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করেছে। শনিবার রাতেই সাজেক থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় প্রায় ২ হাজার ২০০ পর্যটককে খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ছাবের জানান, শনিবারের সংঘর্ষে সদর হাসপাতালে ২৩ জন চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে ২১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুজন ভর্তি ছিলেন, তাঁরা পরবর্তীতে বেসরকারি হাসপাতালে চলে যান।
চার দাবিতে অবরোধ
অবরোধকারীরা ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অন্য দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সমাবেশে হামলাকারীদের বিচার, আহত শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা এবং হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র মুখপাত্র দ্বীপায়ন ত্রিপুরা জানান, সাধারণ মানুষের দাবিতে অবরোধ আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, “অবরোধ চলাকালে সাংবাদিক, সংবাদপত্রের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালনের জন্য আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই।”
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বাতেন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শহরে কোথাও পিকেটিং দেখা যায়নি।
