কওমি মাদ্রাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা মো. শফিকুল হাসান শিহাব

চাঁদপুর প্রতিনিধি।

চাঁদপুরের সন্তান মাওলানা মো. শফিকুল হাসান শিহাব জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। কওমি মাদ্রাসার পাঠ থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পৌঁছানোর এই পথচলা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

গত ২৮ আগস্ট তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার সেই আবেগঘন মুহূর্ত আজও স্মরণীয় তার কাছে। কালবেলার সঙ্গে আলাপকালে তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, রাব্বুল আলামিনের দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি আমাকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের জন্য কবুল করেছেন।”

কওমি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা

শিহাবের শিক্ষাজীবন শুরু হয় চাঁদপুরের মুমিনপুর মাদ্রাসায়। এরপর চাঁদপুর আহমদিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম, রাজধানীর বারিধারার জামিয়া মাদানিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন তিনি। পাশাপাশি তাফসির ও ইসলামী আইনেও পড়াশোনা করেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অর্জন করেন দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি। এ ছাড়া তিনি দুটি ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও প্রেসিডেন্সিয়াল গোল্ড মেডেলও অর্জন করেন।

কওমি মাদ্রাসার পাশাপাশি জেনারেল পড়াশোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, “সহজ ছিল না। তবে শিক্ষকদের সহযোগিতা আর সময় ব্যবস্থাপনার অভ্যাস আমাকে এগিয়ে নিয়েছে। বরং কওমিয়ান পরিচয়ই আমার জন্য বড় প্লাস পয়েন্ট ছিল।”

শিক্ষক ও গবেষক

শিক্ষক হওয়ার পাশাপাশি শিহাব শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারেও কাজ করছেন। তিনি ইন্টিগ্রেটেড মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির মহাসচিব, আল-ঈমান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের প্রধান একাডেমিক কর্মকর্তা, তাহজিব মাকতাবের উপপরিচালক ও তাকওয়া শিক্ষা পরিবারের অন্যতম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিশুশিক্ষা, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং ইসলামাইজড পাঠ্যক্রম প্রণয়নে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

লেখক শিহাব

গবেষণা ও লেখালেখিতেও সক্রিয় এই তরুণ শিক্ষক। ইতোমধ্যে তার অসংখ্য প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও বই প্রকাশিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের জার্নালে নিয়মিতভাবে প্রকাশ পাচ্ছে তার গবেষণা।

শিক্ষকদের গর্ব ও দোয়া

শিহাবের এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত তার মাদ্রাসার শিক্ষকরা। জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুঈনে মুহতামিম মুফতি জাবের কাসেমি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, শফিকুল হাসান শিহাবের সাফল্যে জামিয়া পরিবার আনন্দিত। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ তাকে দেশ ও উম্মাহর কল্যাণে কাজ করার তাওফিক দিন।”

অনুপ্রেরণার আলো

কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রচলিত অনেক ভুল ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন শফিকুল। তিনি প্রমাণ করেছেন, আদর্শ ধরে রেখেও জেনারেল শিক্ষায় শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। কওমি ধারার শিক্ষার্থী থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে ওঠার তার এই সাফল্য এখন তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার আলো।