টেকনাফের জলসীমায় হঠাৎ বেপরোয়া আরাকান আর্মি

নিউজ ডেস্ক:

টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদে হঠাৎ করেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি। গত ২২ দিনে অন্তত ৫৬ জন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে তারা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সেন্টমার্টিনের কাছে ‘সীতা’ পয়েন্ট থেকে একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপকূলজুড়ে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট ট্রলার মালিক সমিতির তথ্যমতে, ৫ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত নাফ নদ ও সাগর মোহনা থেকে সাতটি ট্রলারসহ মোট ৪৯ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর আগে আরও কয়েকটি ঘটনায় ২২ দিনে ৫৬ জন জেলে অপহৃত হন। অপহৃতদের মধ্যে স্থানীয় বাংলাদেশি জেলেদের পাশাপাশি রোহিঙ্গারাও রয়েছেন।

টেকনাফ কাযুকখালীয়া ঘাটের ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমদ জানান, সর্বশেষ অপহৃত পাঁচজনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি এবং তিনজন রোহিঙ্গা।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলছে, অসচেতনতা ও কিছু চোরাকারবারির সহায়তায় জেলেরা অনেক সময় নাফ নদ ও সাগর মোহনা পেরিয়ে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় আরাকান আর্মি তাদের ধরে নিয়ে যায়। বাংলাদেশি জলসীমায় প্রবেশ করে অপহরণের সুযোগ কোনো গোষ্ঠীর নেই বলেও দাবি করে বিজিবি।

বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, নাফ নদে ডুবোচরের কারণে জেলেদের কখনো কখনো মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়তে হয়। ফলে এ ধরনের অপহরণের ঘটনা ঘটছে। অপহৃতদের উদ্ধারে আরাকান আর্মির সঙ্গে আনঅফিসিয়াল যোগাযোগ চলছে। একই সঙ্গে সীমান্তে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা জানান, রাখাইন রাজ্যে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে আরাকান আর্মি জেলে অপহরণ ও ট্রলার লুটের মতো তৎপরতা চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও কৌশলগত অবস্থানে যেতে হবে।

টেকনাফের ইউএনও শেখ এহসান উদ্দিন জানান, প্রতিদিনই আরাকান আর্মি অস্ত্রের মুখে জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে জানানো হয়েছে এবং অপহৃতদের ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।

কোস্টগার্ডের অভিযান

এদিকে শুক্রবার সকালে নাফ নদে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগে ১৯টি ট্রলারসহ ১২২ মাঝিমাল্লাকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। তাদের মধ্যে ৯৩ জন রোহিঙ্গা। আটক জেলেদের দাবি, তারা বাংলাদেশি জলসীমা অতিক্রম করেননি, বরং ফেরার পথে কোস্টগার্ড তাদের ধরে নিয়ে এসেছে।

কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সালাহউদ্দিন রশীদ তানভীর জানান, নাফ নদে প্রতিনিয়ত জেলে অপহরণের প্রেক্ষাপটে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ সময় শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাছ ধরার সময় ওই ১৯ ট্রলারসহ ১২২ জেলেকে আটক করে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।