নিউজ ডেস্ক;
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর যৌথবাহিনী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির হামলার প্রতিবাদে বান্দরবানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লক্ষীপদ দাসের জামিনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানানো হয়।
আজ শনিবার বিকেল ৩টায় বান্দরবান প্রেসক্লাব চত্বরে বিপ্লবী ছাত্র জনতা, বান্দরবান এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ছাত্র প্রতিনিধি জনাব মিছবাহ উদ্দীন এর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব হাবিব আল মাহমুদ।
বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বান্দরবান জেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতী আবুল হাসান, এনসিপি সংগঠক তহীদুল ইসলাম মাসুম, ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল ইসলাম জিহাদী এবং ছাত্রদল নেতা রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা নুরুল হক নুরের উপর হামলাকে “শুধু একজন নেতার উপর নয়, বরং পুরো জুলাই বিপ্লবের উপর হামলা” বলে আখ্যায়িত করেন। তারা বলেন, যৌথবাহিনী ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির সহযোগিতায় সংঘটিত এই হামলা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করে এমন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়কে স্পষ্ট করে তুলছে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।
তারা হামলাকারী ও হামলার মদদদাতাদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সহযোগী আখ্যা দিয়ে বক্তারা বলেন, ভারত ও হাসিনার মদদে জাতীয় পার্টিকে ভর করে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের যে ষড়যন্ত্র চলছে তা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। এসময় জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করা এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তার করার দাবি তোলা হয়।
এছাড়া বক্তারা বান্দরবানে জুলাই আন্দোলনের সময়কার হামলার নেতৃত্বদাতা লক্ষীপদ দাসকে অন্যায়ভাবে জামিন দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও জামিন দেওয়া হয়েছে এবং তাকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। বক্তারা বলেন, সরকারের অভ্যন্তরে ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘাপটি মেরে বসে থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
সভায় জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদেরও গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়।