নিউজ ডেস্ক:
পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদীয় আসন তিনটি থেকে আটটিতে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ। এ দাবিতে সোমবার আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপি জমা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাৎ ফরাজী সাকিব ও পার্বত্য নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি পাইশিখই মারমা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—এই তিন জেলার আয়তন ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ ৪২ হাজার। বিশাল আয়তনের এ অঞ্চলে বর্তমানে মাত্র তিনটি সংসদীয় আসন রয়েছে, যা দিয়ে ২৬টি উপজেলার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তারা প্রস্তাব করেন—
খাগড়াছড়ি-১: রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি ও গুইমারা
খাগড়াছড়ি-২: মাটিরাঙা, মহালছড়ি, পানছড়ি
খাগড়াছড়ি-৩: খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা
রাঙামাটি-১: বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল
রাঙামাটি-২: সদর, কাউখালি, নানিয়ারচর
রাঙামাটি-৩: জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, রাজস্থলী
বান্দরবান-১: সদর, রুমা, থানছি, বোয়াংছড়ি
বান্দরবান-২: লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি
পাইশিখই মারমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে সাতটি সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, যাদের প্রতি প্রতিবেশী দেশগুলোও মদদ দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, আসন সংখ্যা বাড়ানো হলে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং শান্তি ফিরবে পাহাড়ে।
রাঙামাটির সাংবাদিক ও গবেষক সৈয়দ ইবনে রহমত বলেন, “ঢাকা জেলায় ২০টি সংসদীয় আসন থাকলেও আয়তনে আরও বড় রাঙামাটিতে রয়েছে মাত্র একটি আসন। একজন এমপির পক্ষে পুরো জেলায় ৫০টি ইউনিয়নের মানুষের সমস্যা জানা এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “সংসদীয় আসন বাড়ানো হলে মারমা, ত্রিপুরা ও চাকমা ছাড়াও ছোট ছোট জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে। এতে বঞ্চনা ও ক্ষোভ কমবে, পাহাড়ে শান্তি আসবে।”