উপজাতিদের অগ্রাধিকার দেয়া কেন বাতিল হবে না- জানতে চেয়ে উচ্চ আদালতের রুল জারী

নিউজ ডেস্ক:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিভিন্ন পদে নিয়োগে স্থানীয় উপজাতি বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান কেন আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না— তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

গত ৩১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি ফয়েজ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় দায়ের করা রিট আবেদনে বলা হয়, চাকরিতে উপজাতিদের একচেটিয়া অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান সংবিধানের প্রদত্ত সমঅধিকার ও বৈষম্যহীনতার নিশ্চয়তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার— বিশেষত সমঅধিকার, সমান সুযোগ ও ন্যায়সঙ্গত আইনের নিশ্চয়তা (সংবিধানের ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১ অনুচ্ছেদ) লঙ্ঘিত হচ্ছে।

রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এর ধারা ৩২(২) এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার ৪(২) কেন সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করা হবে না। একইসঙ্গে গত ১২ জুন ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, যাতে উপজাতি বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে, কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না— তাও জানতে চেয়েছে আদালত।

রিট আবেদনটি করেন খাগড়াছড়ি সদরের বাসিন্দা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদ উল্লাহ। তার পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট এম.জি. মাহমুদ (শাহীন)। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান (মিলন), খান জিয়াউর রহমান এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল-ফাইশাল সিদ্দিকী ও মো. ইমদাদুল হানিফ।

আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং খাগড়াছড়ি বাজার ফান্ড প্রশাসককে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে।

রিটকারী আসাদ উল্লাহ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে চাকরিতে একচেটিয়াভাবে উপজাতিদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় বাঙালি জনগোষ্ঠী চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীকে বৈষম্যের শিকার করা হচ্ছে, যা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী।”

তিনি আরও জানান, গত বছর উপজাতিদের জন্য ১ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হলেও পাহাড়ের প্রায় সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘শুধুমাত্র উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার’ দেওয়ায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাঙালিরা।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এ রিটের চূড়ান্ত রায় শুধু খাগড়াছড়িই নয়, পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকরি কাঠামোতে বৈষম্য রোধে দিকনির্দেশক হিসেবে ভূমিকা রাখবে। আদালতের রায় একদিকে সংবিধানের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার পথও সুগম করতে পারে।

সুত্র-পার্বত্য নিউজ