নিউজ ডেস্ক:
নগর জীবনের ব্যস্ততা আর কোলাহলের আড়ালে বুধবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীতে ঘটে গেলো রক্তাক্ত দুইটি ঘটনা। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে মোহাম্মদপুর ও আদাবরে কুপিয়ে ও গুলি করে খুন করা হলো দুই যুবককে। চরম উত্তেজনা, পূর্ব বিরোধ আর অপরাধী চক্রের বেপরোয়া দাপট, সব মিলিয়ে এই দুটি হত্যাকাণ্ড রাজধানীতে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
পূর্ব শত্রুতায় কুপিয়ে হত্যা
মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান সড়কের লাউতলায় সন্ধ্যা ৮টার দিকে আল-আমিন (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পূর্বশত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলছে।
বৈঠকের একপর্যায়ে গুলি, নিহত ১
এর এক ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের রোড ৬/এ এর ১০ নম্বর বাসার সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় ইব্রাহিম নামের আরেক যুবককে। তিনি ভোলা জেলার মুজিবনগরের বাসিন্দা। পেশায় ডিম ব্যবসায়ী ইব্রাহিমের সঙ্গে একই পেশার সজীব নামের এক ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে দেনা-পাওনা নিয়ে বিরোধ চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ওই বিরোধ নিষ্পত্তিতে বুধবার রাতে দুই পক্ষ বৈঠকে বসে। একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্কের মধ্যে সজীব কোমর থেকে পিস্তল বের করে ইব্রাহিমকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ইব্রাহিম মারা যান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা কাছাকাছি অবস্থানরত সেনাবাহিনীর টহল দলকে খবর দেয়। সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সজীব এবং তার ভাই রুবেল (৩৫) কে অস্ত্রসহ আটক করে। তবে এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের উপর চড়াও হয়ে গণপিটুনি শুরু করলে সেনাবাহিনী দুজনকেই উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।
ঘটনাস্থল থেকে আমেরিকান তৈরি একটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, তিন রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ব্যবহৃত খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ইব্রাহিমের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আটককৃত দুই ভাই সজীব ও রুবেল মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। আদাবর থানা পুলিশ জানায়, তাদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।